Monday, 14 January 2019

হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে গেলে কী করবেন

বাড়িতে বা অফিসে হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে  রীতিমতো হুলুস্থুল কান্ড হয়ে যায়। কেউ মাথায় পানি ঢালতে থাকে, কেউ পায়ের তালুতে তেল ঘষে, কেউ মুখের ভেতর কিছু দিয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করে। জানা উচিত, ওই মুহূর্তে জ্ঞান ফিরানোর জন্য কি করা উচিত।

১. প্রথম কাজ হবে পাশের হাসপাতালে ফোন করা। এখন বাংলাদেশেও ৯৯৯ নম্বরে কল করে জরুরি সেবাদানকারীদের ডাকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ ছাড়া অনেক অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আছে যাদের ফোন করলে দ্রুত বাড়ি পৌঁছে যায়। প্রথমেই এই কাজ করে ফেললে সেবাদানকারী এসে পৌঁছানো পর্যন্ত বাকি কাজগুলো করার সময় পাওয়া যাবে।

২. অজ্ঞান ব্যক্তিকে ভালোভাবে শুইয়ে দিন। রান্নাঘর, আগুনের উৎস ইত্যাদি বিপজ্জনক জিনিস থেকে দূরে সরিয়ে আনুন। এক দিকে কাত করে দিন, যাতে মুখে, গলায় যে লালা বা নিঃসরণ আছে, তা বেরিয়ে আসতে পারে।

৩. বুকের ওঠানামা থেকে লক্ষ করুন রোগী অক্সিজেন নিচ্ছে কি না। যদি বাড়িতে বা আশপাশে কারও জানা থাকে কীভাবে মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস চালু করতে হয়, তবে তাঁকে ডাকুন।

৪. আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই প্রেসার মাপার যন্ত্র থাকে। প্রেসার খুব কম হলে বা পাওয়া না গেলেও পায়ের দিকটা একটু উঁচু করে দিন বা পায়ের নিচে বালিশ দিন।

৫. ডায়াবেটিসের রোগী হলে গ্লুকোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন রক্তে শর্করা কমে গেছে কি না। যদি যন্ত্র না-ও থাকে, তবু মুখের ভেতর একটু চিনি দিয়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু অজ্ঞান রোগীকে কোনো শরবত বা খাবার গেলানোর চেষ্টা করবেন না, এতে সেই খাবার পানি ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৬. রোগীর খিঁচুনি শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে খিঁচুনি থামতে দিন, তারপর এক পাশে কাত করে দিন। মুখে কোনো চামচ বা এ জাতীয় জিনিস ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। জোর করে ধরে খিঁচুনি থামানো বা নাকের কাছে বিভিন্ন জিনিস শোঁকানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।

৭. আশেপাশে ভিড় বাড়িয়ে ও চেঁচামেচি করে লাভ নেই। বরং এটি অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের কারণে হয়ে থাকলে রোগীর সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

সবশেষ কথা, নানা কারণেই একজন সুস্থ-সবল মানুষ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন। যে কারণেই হোক, জ্ঞান ফিরে আসুক আর না আসুক তাকে প্রাথমিক পরিচর্যার পর যেকোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।
Share:

মোবাইল চার্জ দেয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম গুলো মেনে চলুন

এমন এক যুগে আমরা বাস করি যেখানে হাতের মোবাইলটি দিয়ে কথা বলা ছাড়াও অনেক কাজই করা যায় । যখন বাটনের নরমাল মোবাইলে একবার চার্জ দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে আর চার্জ দিতে হতো না। এখন কম্পিউটার এর কিছু কাজ, টিভি,রেডিও এবং ইন্টারনেট সহ আরও অনেক কিছু এক মোবাইলই সব চাহিদা পূরণ করা যায়। তাই মোবাইল যত সময় চালনা করবেন তার জন্য চার্জ ও দরকার ততবেশী। চলুন জেনে নেই মোবাইল চার্জ দেওয়ার আগে কি বিষয় গুলো মাথায় রাখা দরকার।

কোথায় চার্জ দিবেন এবং কি দিয়ে দিবেন ?

 ‘কোথায় চার্জ দিবো মানে কী!’ আমার রুম এ বসে ফোনে চার্জ দিবো! কিন্তু আপনাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, দিনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা কিন্তু আপনি বাসায় বা রুম এ থাকবেন না। আপনি যদি আপনার মোবাইল অনেকবেশী ইউজ করেন তাহলে শুধুমাত্র বাসা/অফিসের বাইরেও আপনাকে আপনার ফোন চার্জ করা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে পাওয়ার ব্যাংক হতে পারে আপনার ভরসা।

অ্যাভারেজ পাওয়ার ব্যাংকে একটু ধীরগতিতে ফোন চার্জ হয়, আবার পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করতেও কিন্তু ভুলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে পকেটে আপনার ফোন অনুযায়ী একটা চার্জিং ক্যাবল অবশ্যই  রাখা উচিত। পাশাপাশি আপনার গাড়ি থাকলে ফোন চার্জ করার জন্য একটি কার চার্জার রাখতে পারেন। যদি পাওয়ার ব্যাংক বা এক্সট্রা ব্যাটারি ব্যবহার করেন তাহলে ওটার চার্জ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মনে করে আবার ব্যাটারি ফুল করে রাখবেন।

পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও ভালো পাওয়ার ব্যাংকটিই কিনুন। আজকাল বাইরে চলতে ফিরতে পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন চার্জ দিতে গেলে অনেক সময় বন্ধুর ফোনটিও চার্জ দেওয়ার আবদার মেটাতে হয়।
এজন্য পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে কমপক্ষে দুটো পোর্ট আছে কি না দেখে কিনবেন। আর আপনার ফোন ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট  করলে অবশ্যই ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড পাওয়ার ব্যাংক ও চার্জার রাখবেন (পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় এই বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখুন)।

কত সময় ধরে মোবাইল চার্জ দেবেন?

একটা কমন ধারণা হলো, ফোন ১০০ পার্সেন্ট ব্যাটারি লেভেল পর্যন্ত চার্জ করা উচিত এবং তা হয়ে গেলে সাথে সাথেই চার্জার থেকে ফোন খুলে ফেলতে হবে।  বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী আজকালকার স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট খুবই উন্নত ১০০ পার্সেন্ট চার্জ হওয়ার পর অটোমেটিক্যালি চার্জার থেকে ফোনের ব্যাটারিতে চার্জ ফ্লো বন্ধ হয়ে যায়। তাই এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।

তবে অনেক গবেষকের মতে মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে সবসময় ৪০ থেকে ৮০ ভাগ চার্জ রাখাটাই উত্তম। অনেকেই আমরা বাস্তব ক্ষেত্রে এই থিওরি ফলো করি না । অন্যদিকে আমাদের কাছে ১০০ পার্সেন্ট চার্জ করাটাই বেশি সুবিধাজনক মনে হয়। তাই এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ারও কারণ নেই। সবসময় ফুল চার্জ করলেও আপনার ব্যাটারি একদম বাতিল হয়ে যাবে তেমনটাও নয়।

Share:

Sunday, 13 January 2019

সুস্থ থাকতে চাইলে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা নিয়েনিন


আপনি যদি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা না নিয়ে থাকেন, তাহলে এখনই রক্ত পরীক্ষা করে টিকা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। এটা কিন্তু খুবই মারাত্মক এবং সংক্রামক ভাইরাস যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভার ক্যান্সার ঘটাতে পারে। তবে আক্রান্তরা ব্যক্তি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে।
অনেকেই ভয়ে রক্ত পরীক্ষা করেন না এবং টিকা দিতে চাননা । আলহামদুলিল্লাহ, আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, টেস্টের জন্য যখন ব্লাড স্যাম্পল নেয়া হয় তখন আসলে কোনো ব্যথা অনুভব হয়না। আর টিকা দেয়ার সময় পিঁপড়ার কামড়ের মত একটু অনুভূতি হয় ভয়ের কিছু নেই। একটি টিকার দাম ৫০০ টাকা বা কম বেশী হতে পারে। একজনের সাধারণত ৪টি টিকা লাগতে পারে যা চিকিৎসক বলে দেবেন।
আপনার ব্লাড টেস্টে যদি এই ভাইরাস ধরা পড়ে তাহলে আপনাকে এই টিকা দেয়া যাবে না। তবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনি অন্য কোনো চিকিৎসা দিবেন।
 দেরি করলেই বড্ড দেরি হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করুন। এটা মোটেই হেলাফেলা করার মত বিষয় না। নিজে এবং নিজের আশেপাশের সবাইকে সচেতন করুন। এটা কিন্তু একজনের দেহ থেকে অন্যজনের মধ্যেও ছড়ায়। সুতরাং সবার সতর্ক থাকা উচিত।
Share:

এক সাথে অনেক ওষুধ খাওয়ার আগে নিয়ম জানুন

বয়স বাড়ছে সাথে শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রোগ। প্রেসের , ডায়াবেটিকস, রক্তে চর্বি, তার সঙ্গে হয়তো আছে হৃদ্‌রোগ বা স্নায়ুর সমস্যা। কারও হয়তো আছে থাইরয়েডের সমস্যা, কেউ ডিপ্রেশনের ওষুধ খান। যেকোনো সময় লাগতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথার ওষুধ বা অ্যালার্জির ওষুধ। তাই খেতে হয় নানা ধরণের ঔষধ। কিন্তু এতো ওষুধের ভিড়ে একটা আরেকটার সঙ্গে কোনো বিক্রিয়া করছে কি না, তা কখনো ভেবে দেখেছেন কি?

ঔষধবিজ্ঞানে ড্রাগ ইন্টারেকশন বা বিভিন্ন ওষুধ একসাথে  খাওয়ার ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক সাথে  বিভিন্ন ওষুধ খেলে একে অপরের কার্যকারিতা যেমন কমিয়ে দিতে পারে, আবার অতিরিক্ত বাড়িয়েও দিতে পারে। থাইরক্সিন বা থাইরয়েড হরমোনের সঙ্গে অ্যান্টাসিড বা আয়রন ট্যাবলেট খেলে এর শোষণ কমে যেতে পারে, ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল না-ও পেতে পারেন।  আবার যক্ষ্মার চিকিৎসা চলাকালে কোনো নারী রোগীর জন্মবিরতিকরণ পিলের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তখন পিল খাওয়া অবস্থাতেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়তে পারে। এ রকম অবস্থা এড়াতে যাঁরা নানা ধরনের ওষুধ খান, তাঁদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

■ যখনই কোনো রোগের জন্য চিকিৎসক একটি নতুন ওষুধ দিবেন , তখন প্রতিদিন নিয়মিত কী কী ওষুধ খাচ্ছেন, সে ঔষধ গুলোর নাম   চিকিৎসককে বলুন।

■ অনেকে ভিন্ন ভিন্ন রোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক চিকিৎসককে সবগুলো ব্যবস্থাপত্র দেখান। একই গ্রুপের দুইটি ওষুধ দুই জন চিকিৎসক খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কারণে দুইটিই একসঙ্গে চলতে থাকার নজির প্রায়ই পাওয়া যায়।

■ ওষুধের দোকানদার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীর পরামর্শে নিজে কোনো ওষুধ পরিবর্তন করবেন না। যেমন আপনি হয়তো একটি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, আপনার স্বামী আরেকটি খাচ্ছেন। সেই ওষুধ আপনার জন্য কার্যকর হবে, এমন কোনো কথা নেই।

■ মনে রাখবেন বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় ঔষধ এক সঙ্গে খেলে নানা ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে। তাই চিকিৎসককে দেখিয়ে নিন।

■ কোন ওষুধ খাওয়ার আগে কোন ঔষধ খাওয়ার পরে, তা ভালো করে জেনে নিন। কেননা অনেক খাবারও ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসকের কাছে প্রায়ই জন্মবিরতিকরণ পিল, ঘুমের ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ বিষয়ে তথ্য গোপন করেন বা লজ্জায় বলেন না, এমনটা করবেন না।
Share:

Saturday, 12 January 2019

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

 সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ মে ২০১৮ ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে মহাকাশে নিজের কক্ষপথে গেল বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশনস স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। আর এই উড্ডয়নের সাথে সাথেই বাংলাদেশ নাম লেখাল নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর এলিট ক্লাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ উড্ডয়নের পুরোটা সময় বরাবরের মতই স্পেসএক্স তাদের ওয়েবসাইটে  লাইভ স্ট্রিম করে। বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবময় এই ঘটনার সাক্ষী দেশের মানুষদের উৎসাহের শেষ নেই। সেই সাথে সাধারণ মানুষদের মাঝে এই স্যাটেলাইট নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহলও। সেসবেরই উত্তর খুঁজতে এই লিখাঃ

যেভাবে শুরু
গত ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু- ১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে চূড়ান্ত অনুমোদিত হয়। ঐবছর বিটিআরসি ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস নামক কোম্পানির সাথে স্যাটেলাইট সিস্টেম ক্রয় করা বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি সই করে। এরপর ২০১৬’র সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্যাটেলাইটটিকে কক্ষপথে পাঠানোর খরচ জোগানোর অংশ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংকের সাথে ১৪০০ কোটি টাকার টাকার একটি ঋণ চুক্তি সই করে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এর জন্য কত খরচ হল?
বঙ্গবন্ধু- ১ স্যাটেলাইট প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকার মত। এই অর্থের যোগান আসছে দুই ভাবে। এর মধ্যে আছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকার সরকারি তহবিল। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক দিচ্ছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণে লাগল ১ বছরের বেশি
ফ্রান্সে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করতে ১ বছরের বেশি সময় লেগে যায়। স্যাটেলাইট নির্মাতা কোম্পানি থ্যালাসের সাথে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ২০১৮’র মার্চে বিশেষ কার্গো বিমানে করে একে উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর মহাকাশ যাত্রা
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে বহন করে নিয়ে গিয়েছে বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ ও মহাকাশযান নিয়ে গবেষণাকারী জনপ্রিয় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স। এটি ইলন মাস্কের অন্যতম স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। যে রকেটে করে মহাকাশে স্যাটেলাইটটিকে পাঠানো হয় সেটি হলো স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ রকেট। স্পেসএক্স এর ফ্যালকন ৯ রকেটের নতুন ভার্সন ব্লক ৫ এর প্রথম মিশনই ছিল বঙ্গবন্ধু-১।

যেখান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত নাসার জন এফ কেনেডি স্পেস সেন্টার কমপ্লেক্সের ৩৯এ লঞ্চপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে উড্ডয়ন করেছে স্পেসএক্স এর ফ্যালকন ৯ রকেটের নতুন ভার্সন ব্লক ৫ রকেট।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এর স্পেসিফিকেশন
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর ওজন প্রায় ৩৬০০ কেজি এবং এতে আছে স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশ নিজে ব্যবহার করবে আর বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিভিন্ন দেশ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেয়া হবে।

দেখতে কেমন হবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট?
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গায়ে আমাদের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১ লেখা আছে। বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামও রয়েছে সেখানে।

উৎক্ষেপণের পরেও অনেক কাজ!
উড্ডয়নের পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে স্যাটেলাইটটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে ২০ দিন (মোট ৩০ দিনের মত)। এসময় স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও ইতালির তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পরেই স্যাটেলাইটটির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হাতে দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়াতে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামের বিশেষ রাষ্ট্রীয় কোম্পানি।

যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অন্তত ৪০ ধরনের সেবা দেবে যেমন- স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার, বেতার, ভি-স্যাট, ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, ইন্টারনেট প্রভৃতি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন  ডলার সাশ্রয় হবে। কারণ নিজেদের স্যাটেলাইট হলে বাংলাদেশকে আর বিদেশি স্যাটেলাইট চড়া মুল্যে ভাড়া নিতে হবেনা। আশা করা যাচ্ছে স্যাটেলাইটটি কমপক্ষে ১৫ বছর কর্মক্ষম থাকবে।
Share:

ফেসবুক টিভি আসছে শীঘ্রই

ভিডিও নিয়ে ফেইসবুকের মহাপরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই। কোম্পানিটি অনেক আগে থেকেই ইউটিউবের সাথে পাল্লা দিতে ভিডিও কনটেন্টের ওপর জোড় দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন জনপ্রিয় ভিডিও মিডিয়া কোম্পানিকে ফেসবুকে ভিডিও আপলোড এর জন্য অর্থও প্রদান করেছে  ফেইসবুক। আগামী দুই এক মাসের মধ্যে ফেইসবুক সাইটেই প্রিমিয়াম টিভি শো দেখার ব্যবস্থা করবে এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট। আর শুরুতে প্রায় দুই থেকে তিন ডজন টিভি শো থাকতে পারে এই সেবায়। অন্তত এমনই খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বিজনেস ইনসাইডার জানাচ্ছে, ফেইসবুক অরিজিনাল টিভি শো বানাচ্ছে, যেগুলো সচরাচর টিভি অনুষ্ঠানের মতই হবে। এসব শো’র জন্য বড় আকারের বাজেট রয়েছে ফেসবুকের।
ফেসবুকের অরিজিনাল ভিডিও শো মূলত দুই ধরনের হবে বলে জানাচ্ছে বিজনেস ইনসাইডার। এক ক্যাটেগরির শো দীর্ঘ সময়ের জন্য চলবে, আর অন্য ক্যাটেগরির শো ৫-১০ মিনিট ব্যাপ্তিকালের হবে।
তবে ফেইসবুকের এসব টিভি স্টাইলের শো’তে কারা অভিনয় করছেন, কিংবা এগুলোর বিষয়বস্তুই বা কী হবে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
ফেইসবুকে মূলত ব্যবহারকারীরাই কনটেন্ট তৈরি করেন, যা সব সময় ততটা মানসম্পন্ন হয়না। আর বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যেসব কনটেন্ট ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করে, সেগুলোর জন্য ফেইসবুক পুরোপুরি আর্থিক অংশীদার হয়না। সুতরাং নিজেদের প্ল্যাটফর্মে নিজেদের কনটেন্ট দেখিয়ে অর্থ আয়ের এই সুযোগ ফেইসবুক অবশ্যই হাতছাড়া করবে না। এখন দেখা যাক, পরবর্তী গেইম অব থ্রোনস ফেইসবুকের মাধ্যমেই প্রদর্শিত হয় কিনা!
Share:

পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে!

স্তন ক্যান্সার —এই শব্দটি শুনলেই আমরা ভাবি এটি মহিলাদের সমস্যা পুরুষদের ভাবনার কোন কারণ নাই। একেবারেই ভুল ধারণা। রোগটি পুরুষদের ও হতে পারে। আরও বেশি ভাবনার কারণ হলো সাম্প্রতিককালে পুরুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সার সোসাইটির আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ জন নারী।  একই বছরে এই রোগে ভুগেছেন ২ হাজার ৪০০ জন পুরুষ। এর মধ্যে আনুমানিক ৪০০ জন পুরুষের এ বছর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের তুলনায় পুরুষদের হার বেশ কম মনে হতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্তন ক্যানসার বেশি বিপজ্জনক।

লুইভিলের নরটন ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ‘অনকোলজিস্ট’ জ্যানেল সেগের যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম ‘ইউএসএ টুডে’কে জানিয়েছেন, পুরুষের স্তনে কোষের সংখ্যা কম থাকাটা আশীর্বাদের সঙ্গে অভিশাপও। পুরুষের স্তনে কোষের ঘনত্ব বেশ কম। এ কারণে স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হলে ভেতরকার ‘গোটা’ শনাক্ত করা সহজ। আবার কোষের ঘনত্ব কম হওয়ায় পুরুষের স্তন থেকে ক্যান্সার  ছড়িয়ে পড়ার হার অনেক বেশি। পুরুষের স্তনে ক্যান্সার  শনাক্ত করার পর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, রোগটা ছড়িয়ে পড়েছে দেহের অন্যান্য অঙ্গেও।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৫ বছরে পুরুষের স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হওয়ার হার শতকরা ২৬ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষদের স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসায় ‘একটু দেরি’ প্রাণঘাতী হতে পারে। পুরুষদের স্তনকোষ যেহেতু নারীদের মতো অতটা ঘন নয়, তাই সেখানে কোনো ‘টিউমার’ সৃষ্টি হলে তা দ্রুতই পাঁজরের পেশি ও চামড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিপদের এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকদের মতে, স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে নারীদের নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। কারণ, পুরুষদের স্তনকোষ সুগঠিত নয়। তারপরও ৩৫ বছর বয়স থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পুরুষদের একবার করে পরীক্ষা করানো উচিত বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

Share:

Friday, 11 January 2019

ফেইসবুক মেসেঞ্জারের কিছু দরকারী ফিচার

সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে, দিনে অন্তত কয়েকবার মেসেঞ্জারে ঢুঁ মারার কথা আপনি না বললেও আমরা সবাই জানি। বন্ধুদের আড্ডা থেকে শুরু করে ক্লাস লেকচার যোগাড় করা- সব ব্যাপারেই মেসেঞ্জারের ব্যাপক ব্যবহার! চ্যাট করা, ছবি পাঠানো আর অডিও/ভিডিও কলের বাইরেও কিন্তু মেসেঞ্জারের বেশ মজার ও কাজের কিছু ফিচার রয়েছে। এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আপনার জীবনকে আরেকটু সহজ করা তুলুন। ফেসবুক মেসেঞ্জারের দারুণ কিছু ফিচার --

একাউন্ট ছাড়াই ব্যবহার করুন ফেইসবুক মেসেঞ্জার

ফেইসবুক  নীল-সাদা দুনিয়া আপনার পছন্দ না হওয়ার কারণে আপনার হয়তো কোনো কোনো সময় ফেইসবুক একাউন্ট না রাখার দুর্লভ ইচ্ছে হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে যদি আপনাকে মেসেঞ্জার ব্যবহার করতেই হয় তাহলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ খুব সহজেই কোনো ফেইসবুক একাউন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র আপনার ফোন নম্বর দিয়ে লগইন করে মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা অন্যান্য মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের সাথে চ্যাট করতে পারবেন।

ফেইসবুক মেসেঞ্জার ওয়েব ভার্সন

ডেস্কটপে ফেইসবুক ব্যবহার করার সময় এতে চ্যাটও করা যায়। কিন্তু আপনি যদি শুধুমাত্র চ্যাট করার জন্যই ফেসবুকের মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি চাইলে মেসেঞ্জারের ওয়েব ভার্সন ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য মেসেঞ্জার ডট কম অথবা এড্রেস বারে এম ডট এমই লিখে এন্টার করলেই হলো।

ফেইসবুক মেসেঞ্জার ইনস্ট্যান্ট গেমস

ফেসবুক মেসেঞ্জার এখন শুধু একটি চ্যাটিং অ্যাপই নয় বরং এটি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম। মেসেঞ্জার থেকেই এখন আপনি সরাসরি ওয়েব অ্যাপ ভিত্তিক জনপ্রিয় সব গেইম খেলতে পারবেন। পাশাপাশি বন্ধুদেরকে চ্যালেঞ্জও করতে পারবেন।


ফেইসবুক মেসেঞ্জার চ্যাট বট

আপনি টেলিগ্রাম বা স্কাইপ ব্যবহারকারী হলে চ্যাট বট নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। চ্যাট বট মূলত অটোমেটেড প্রোগ্রাম যা আপনার সাথে চ্যাট করতে পারে। আর আপনি চ্যাট করেই এটাকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করাতে পারবেন। মেসেঞ্জারেও এই ফিচার আছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় থার্ড পার্টি বট এখন মেসেঞ্জার থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

ফেইসবুক মেসেঞ্জার রিমাইন্ডার

ধরুন, আপনার আগামী তিন দিন পর একটি প্রজেক্ট কাউকে সাবমিট করতে হবে। আপনি যদি ভুলোমনা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিৎ হবে মেসেঞ্জারে তার চ্যাট থ্রেডে গিয়ে উপরের দিকে ডান পাশের ‘i’ বাটনে ক্লিক করে অপশনে গিয়ে একটি  প্ল্যান তৈরি  করা । মেসেঞ্জার নিজেই আপনাকে বিষয়টি যথাসময়ে নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে মনে করিয়ে দিবে।

নিক নেইম সেট করা

মনে করুন, আপনারা ৩০ জন একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য মেসেঞ্জারে গ্রুপ চ্যাট খুললেন। সবাই চ্যাট করার সময় অচেনা/একই নামের অন্য কেউ থাকলে বিভ্রান্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে সবার নিকনেইম হিসেবে তাদের ডাকনাম ও সাথে পদবি দিয়ে দিতে পারেন। তাহলে আর বিভ্রান্তি থাকবে না।

ফেইসবুক মেসেঞ্জারে লোকেশন শেয়ার

ধরা যাক, আপনি প্রথমবারের মত আপনার বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছেন। আপনার বন্ধুও সাথে নেই। সেক্ষেত্রে আপনি কোথায় আছেন কিংবা কোনদিক দিয়ে যাচ্ছেন তা সরাসরি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে পারবেন এই ফিচারের মাধ্যমে। আপনার বন্ধু আপনাকে একবারে একটানা ১ ঘন্টার জন্য আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ ট্র্যাক করতে পারবেন।

নিজেই নিজেকে মেসেজ পাঠান

ফেসবুক মেসেঞ্জারে আপনি চাইলে নিজেকেই নিজে মেসেজ পাঠাতে পারেন। মেসেঞ্জারের সার্চ বারে গিয়ে নিজের ফেসবুক আইডির নাম লিখলেই আপনার প্রোফাইল দেখতে পাবেন। ওখানে ক্লিক করে আপনাকে আপনি মেসেজ, ছবি, ভিডিও সব পাঠাতে পারবেন। আপনি হয়তো ভাববেন কী দরকার নিজেকে নিজে মেসেজ পাঠানোর! আসলে নিজেকে নিজে মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে আপনি গুরুত্বপুর্ণ নোট, ছবি কিংবা ফাইল মেসেঞ্জারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারছেন। চাইলে পরে যে কোনো ডিভাইস থেকেই সেগুলো আবার বের করতে পারবেন। এটা অনেকটা নোটপ্যাড, বুকমার্ক ম্যানেজার আর একই সাথে ক্লাউড ড্রাইভ হিসেবে কাজ করবে।
Share:

এস ই ও করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টুলস

একটি ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে আনতে হলে এস ই ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এস ই ও করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুলস এর দরকার হয় সেই টুলস গুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো :


গুগল ফেইজষ্পীড ইনসাইটস 

এটাতে কোন ইউ আর এল সাবমিট করলে কম্পিউটার এবং মোবাইল এর জন্য ওই ইউ আর এল এর লোডিং সময় এবং কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হলো এই টুলস এর কাজ।

কীওয়ার্ড টুল আইও 

একটি কীওয়ার্ড লিখলে, সে দীর্গ বেখ্যা সহ কীওয়ার্ড প্রদান করে।

গুগল এনালাইটিক্স 

এই টুলসটিতে ওয়েবসাইট এড্রেস দিলে সে প্রত্যেকটি ট্রাফিক এনালাইসিস করে তথ্য প্রদান করে এমনকি ট্রাফিক এর আগমনের জায়গাটিও শনাক্ত করে।

গুগল সার্চ কনসোল + বিং ওয়েবমাস্টার টুলস 

এই টুলস গুলোর কাজ হলো ওয়েবসাইট এর প্রত্যেকটা পোষ্ট ও লিংক কে ইনডেক্সিং করে সার্চ ফলাফলের টপ লিস্ট এ নিয়ে আসা।

আহরেফস ব্যাকলিংক চেকার 

এটা একটা ফ্রি টুলস এটা যে কোন ওয়েবসাইটের মোট ব্যাকলিংক থেকে ১০০টি ব্যাকলিংক বেখ্যাসহ প্রদর্শন করে।

গুগল কীওয়ার্ড প্লানার 

একটি কীওয়ার্ড বা অনেক গুলো কীওয়ার্ড এক সাথে টুলটিতে  প্রবেশ করালে  গুগল আপনার দেওয়া কীওয়ার্ড এর উপর নির্ভর করে একই ধরণের অনেক গুলো কীওয়ার্ড ফেরত দেবে যাতে থাকবে মাসিক অনুসন্ধানের পরিমাণ, প্রতিযোগিতা এবং এমন প্রস্তাবিত পদ যা আপনি বিবেচনা নাও করতে পারেন।

গুগল ট্রেন্ডস 

গুগল ট্রেন্ডস সময়ের সাথে জনপ্রিয় সার্চ শব্দগুলি দেখায়, যা অন্যান্য জিনিসের মধ্যে অনুসন্ধান জনপ্রিয়তার মৌসুমী বৈচিত্রগুলি উন্মোচন করার জন্য উপকারী। আপেক্ষিক জনপ্রিয়তা দেখতে একাধিক পদ তুলনা করে।

সিমিলার ওয়েব 

একটি ওয়েবসাইট কত ট্রাফিক পায় অনুমান করার জন্য এই টুলটি ব্যবহার করা যায়। ট্রাফিক উৎস, অবস্থান, এবং আরো অনেক কিছু দেখা যায়। প্রতিযোগী গবেষণা জন্য একটি সহায়ক হাতিয়ার।


এক্সমএল সাইটম্যাপস 

শুধু আপনার সাইটের ইউ আর এল  এবং কিছু ঐচ্ছিক প্যারামিটার লিখুন এবং এক্সমএল সাইটম্যাপগুলি একটি সাইটম্যাপ তৈরি করবে যা আপনি গুগল অনুসন্ধান কনসোল এবং বিং ওয়েবমাস্টার সরঞ্জামগুলিতে আপলোড করতে পারবেন। ৫০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিনামূল্যে করা যাবে।

রোবোটস ডট টি এক্স টি 

রোবোটস ডট টি এক্স টি ফাইল ওয়েব রোবটগুলিকে একটি ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাগুলির সাথে কী করতে হবে তা জানাতে দেয়। যখন রোবোটস ডট টি এক্স টি এ একটি পৃষ্ঠাকে নিষিদ্ধ করা হয়, সেই নির্দেশগুলি সেই রোবটগুলিকে সম্পূর্ণরূপে সেই ওয়েব পৃষ্ঠাগুলিতে এড়িয়ে যেতে বলে। এমন কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে যা কোন রোবোটস ডট টি এক্স টি উপেক্ষা করা যেতে পারে, সর্বাধিক উল্লেখযোগ্যভাবে ম্যালওয়ার রোবটগুলি যা নিরাপত্তা সমস্যাগুলির সন্ধান করছে।
Share:

Thursday, 10 January 2019

আপনার ফেসবুক প্রোফাইল কে দেখল তা কি জানা সম্ভব?

আপনি অনেকবারই মনে মনে চিন্তা করেছেন, “আমার এক্স ফ্রেন্ড কি মাঝে মাঝে আমার ফেসবুক প্রোফাইল দেখেন? ইস, যদি দেখতে পারতাম!
লিংকডইনে সাইট এ খেয়াল করেছেন, কেউ আপনার লিংকডইন প্রোফাইল ভিজিট করলে আপনি নোটিফিকেশন পান। নোটিফিকেশন কি ফেসবুকের ক্ষেত্রেও পেতে ইচ্ছে হয়? এটা সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রায়ই ভাবেন?
তাহলে অত্যন্ত দুঃখের সাথেই আপনাকে জানাতে হচ্ছে যে এই জিনিসটা জানা আপনার-আমার কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কারণ---

ফেসবুক প্রতিদিন আমাদের প্রোফাইল সম্পর্কে হাজার হাজার ডেটা কালেক্ট করছে। এর মাঝে কিছু কিছু নতুন ডাটা ফেসবুক শুধু আপনাকেই দেখাচ্ছে, কিছু ডাটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে আর  কিছু ডাটা  আপনার বন্ধু বান্ধবদের কেও দেখাচ্ছে, আবার এমন কিছু ডাটা আছে যেগুলো ফেসবুক কারো জন্যই উন্মুক্ত করে না। এমনই কিছু গোপন ডাটা হলো আপনার ফেসবুক প্রোফাইল কে কে ভিজিট করছে তা ফেসবুক নিজে জানলেও আপনাকে জানাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ফেসবুক তেমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদান না করলেও তাদের হেল্প পেইজ খুঁজে নিম্নোক্ত বক্তব্য পাওয়া গেছে–
“ফেসবুক কাউকে আপনার প্রোফাইল কে কে ভিজিট করেছে তা ট্র্যাক করতে দেয় না। থার্ড পার্টি কোন অ্যাপও আপনাকে এই সুবিধা দিতে পারবে না।”  ফেইসবুক কর্তপক্ষ বলেছেন যদি কোন অ্যাপ এই ধরনের দাবী করে তাহলে দয়া করে অ্যাপটির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে রিপোর্ট করুন।
আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন যে অনেক ক্রোম এক্সটেনশন কিংবা থার্ড পার্টি ওয়েব অ্যাপ দাবী করেছে যে তাদের অ্যাপ এর সাথে আপনার প্রোফাইল কানেক্ট করলে তারা আপনাকে আপনার প্রোফাইল কে কে ভিজিট করেছে তা দেখতে দিবে।

কিন্তু ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের বিবৃতি থেকে এটা স্পষ্ট যে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো আপনাকে এই সুবিধা কখনোই দিতে পারবে না। কারণ থার্ড পার্টি অ্যাপ ফেসবুকের নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের বাইরে আপনার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারে না।

তাই আপনার প্রোফাইল ভিজিটর দেখানোর কথা বলে এসব অ্যাপ মূলত আপনার পার্সোনাল ইনফর্মেশন ও কন্ট্যাক্ট ইনফর্মেশন দেখে নিচ্ছে। পাশাপাশি অনেক অ্যাপ আবার এই ফিচারের কথা বলে টাকাও দাবী করে। মূলত এগুলো শুধুই বিভ্রান্ত।

বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ আপনাকে এরকম বিভিন্ন ফিচারের লোভ দেখিয়ে আপনাকে ফাঁদেও ফেলতে পারে। যার ফলে আপনি আপনার মূল্যবান আইডিটিও হারাতে পারেন। তাই এসব ফিচারের লোভে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো ব্যবহার না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি এসব সার্ভিস ইতিমধ্যে ব্যবহার শুরু করলে দ্রুত সার্ভিসগুলো আপনার প্রোফাইল থেকে ডিসকানেক্ট করে নিন।
Share:

Popular Posts