Saturday, 12 January 2019

পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে!

স্তন ক্যান্সার —এই শব্দটি শুনলেই আমরা ভাবি এটি মহিলাদের সমস্যা পুরুষদের ভাবনার কোন কারণ নাই। একেবারেই ভুল ধারণা। রোগটি পুরুষদের ও হতে পারে। আরও বেশি ভাবনার কারণ হলো সাম্প্রতিককালে পুরুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সার সোসাইটির আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ জন নারী।  একই বছরে এই রোগে ভুগেছেন ২ হাজার ৪০০ জন পুরুষ। এর মধ্যে আনুমানিক ৪০০ জন পুরুষের এ বছর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের তুলনায় পুরুষদের হার বেশ কম মনে হতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্তন ক্যানসার বেশি বিপজ্জনক।

লুইভিলের নরটন ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ‘অনকোলজিস্ট’ জ্যানেল সেগের যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম ‘ইউএসএ টুডে’কে জানিয়েছেন, পুরুষের স্তনে কোষের সংখ্যা কম থাকাটা আশীর্বাদের সঙ্গে অভিশাপও। পুরুষের স্তনে কোষের ঘনত্ব বেশ কম। এ কারণে স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হলে ভেতরকার ‘গোটা’ শনাক্ত করা সহজ। আবার কোষের ঘনত্ব কম হওয়ায় পুরুষের স্তন থেকে ক্যান্সার  ছড়িয়ে পড়ার হার অনেক বেশি। পুরুষের স্তনে ক্যান্সার  শনাক্ত করার পর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, রোগটা ছড়িয়ে পড়েছে দেহের অন্যান্য অঙ্গেও।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৫ বছরে পুরুষের স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হওয়ার হার শতকরা ২৬ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষদের স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসায় ‘একটু দেরি’ প্রাণঘাতী হতে পারে। পুরুষদের স্তনকোষ যেহেতু নারীদের মতো অতটা ঘন নয়, তাই সেখানে কোনো ‘টিউমার’ সৃষ্টি হলে তা দ্রুতই পাঁজরের পেশি ও চামড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিপদের এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকদের মতে, স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে নারীদের নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। কারণ, পুরুষদের স্তনকোষ সুগঠিত নয়। তারপরও ৩৫ বছর বয়স থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পুরুষদের একবার করে পরীক্ষা করানো উচিত বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

Share:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts